বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা
Browsing Tag

শেষবিকেলে সিমলিপালে

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ১৯

আশ্বিনের ভোরে, বিচিত্র গন্ধময় প্রকৃতির মধ্যে মালভূমির ওপরে বসে কুয়াশা ঢাকা সেই উপত্যকা ভারি সুন্দর দেখাত। ওপর থেকে নীলগাইদেরও দেখা যেত। কোনও কোনওদিন সকালে বেরিয়ে আমি সেই উপত্যকায় নেমে হাঁটতে হাঁটতে চলে যেতাম শেষ প্রান্তে।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ১৮

সন্ধের পরে মা যখন লাক্স সাবান দিয়ে গা ধুয়ে গায়ে কিউটিকুরা পাউডার লাগিয়ে মাঝের ঘরের গোদরেজের আলমারিতে হেলান দিয়ে মেঝেতে মাদুর পেতে বসে আমায় পড়াতেন, আমি তখন মায়ের কোল ঘেঁষে বসতাম।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ১৭

একটা বাঘ সরষেখেতের মধ্যে কুকুরের মতো করে বসে আছে। পেছনের দুটি পা পেটের নীচে গোঁজা, সামনের দুটি সামনে রাখা। সামনে কোনও আড়াল-আবডাল নেই। বাঘটি আমাদের থেকে বড়জোর একশো-সোয়াশো গজ দূরে ছিল।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ১৬

বাঘকে ভয় আমরা করি না। যার কপালে আছে বাঘের পেটে যাওয়া, সে যাবে। তবে আমরা ভয় করি, বাঘ্যডুম্বাকে। জিজ্ঞেস করলাম, সেটা কী জিনিস? ওরা বলল, যেসব মানুষকে বাঘে খেয়ে নেয় তারা ভূত হয়ে যায়। তাদেরই নাম বাঘ্যডুম্বা।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ১৫

মোটরসাইকেলের শব্দ হাতিদের মাথা গরম করে দেয়। জঙ্গল ঘুরলে পায়ে হেঁটে ঘুরতে হয়, আদিবাসীদের বাড়িতে গিয়ে থাকতে হয়, তাদের খাবার খেতে হয়, তাদের সঙ্গে নাচতে হয়, শল্যপ খেতে হয়।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ১৪

বাবা নেমে এসে আমাদের গাড়ি থেকে রাইফেল, গুলি নিলেন। গাড়ির আড়াল থেকে গুলি করতে গেলেন। পাহাড়ি রাস্তায় গাড়িটা খানিক গড়িয়ে গেল। ফলে বাঘ আর বাবা মুখোমুখি। গাড়ির আড়াল নেই। বাবা তাড়াতাড়ি আড়ালে এলেন।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ১৩

চিকন তার মুখটি আমার বুকে রেখে দু’হাতে আমায় জড়িয়ে ধরল। আমিও আশ্লেষে ওকে ডান হাত দিয়ে জড়িয়ে ধরলাম। ওর গ্রীবাতে আমার মুখ নামিয়ে এনে একটি চুমু খেলাম। তাতে চিকন যেন শিহরিত হয়ে উঠল। ভয়ে আর ভাললাগায়।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ১২

গল্প শেষ হলে চিকন আর আমি দু’জনেই অনেকক্ষণ চুপ করে রইলাম। ঝিরঝির করে একটা হাওয়া বইছিল। আর ওই ফিঁচফিঁচিয়া পাখি ডাকছিল। আরও নানা পাখি জোরান্ডার গর্জ থেকে ডাকছিল। একটু পরে সন্ধে হয়ে যাবে।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ১১

চিকনের সাবান মাখা গা-ধোয়া জল নর্দমা দিয়ে বাইরে যাচ্ছিল। সেদিকে তাকিয়েই চিকনের স্নানরতা, সিক্তা এবং নগ্নিকা মূর্তির কল্পনা করছিলাম আমি। অনেকে বলতে পারেন, এটা একটা পারভার্সন। আমি বলব, আই বেগ টু ডিফার।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ১০

জীবনে মুহূর্ত থেকে মুহূর্তে বাঁচো। আজকের এই মুহূর্তটিকেই তুমি উপভোগ করো, অনিঃশেষে একে নিংড়ে নাও এবং এই মুহূর্ত থেকে অন্য মুহূর্তে যখন যাবে তখন সেটিকে নিবিড় করে আলিঙ্গন করো।