বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা
Browsing Tag

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ১

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ৩১

মেচ সর্দারের সঙ্গে আমাদের কোনওদিনই দেখা হয়নি। সর্দারের স্ত্রী উঠোনে বসে ঝরে পড়া লাল-কালো-হলুদ কাঁঠালপাতার মধ্যে নানারঙের মোটা সুতো দিয়ে তাঁত বুনতেন। তাঁদের পোশাক ছিল খাসি, গারো বা রাভাদেরই মতো।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ৩০

গুদামের উল্টো দিকে ছিল নানারকম ফুলের ঝাড়। যেমন রঙ্গন, কাঠটগর, হাসনুহানা আরও নানারকম নাম না জানা ফুলের ঝাড়। সেই প্রাঙ্গণটুকু পেরিয়ে গিয়ে ছিল অন্দরমহল। এই গুদামের শেষ অবধি ছিল বহির্মহল।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ২৯

অন্ধকার নেমে আসছে। চতুর্দিক থেকে পাখিদের কলকাকলি মথিত করছে বন, পাহাড়। জোরান্ডা প্রপাতের শব্দ অন্ধকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জোর হচ্ছে। চিকন বলল, আপনার তো অনেক জ্ঞান। শিক্ষা সম্বন্ধে আপনার কী ধ্যানধারণা, একটু বলবেন?

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ২৮

একদিন আমি দেখি, সন্ধের পরে আধো অন্ধকারে আমার সেই মাসিমা আর ছোটকাকু বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে আছেন, কী কথা বলছেন। আমি দেখে নেমে আসি। বাড়ি ফিরে গল্পে গল্পে মাকে সেকথা বলেছিলাম। তার পরে কী হল জানি না।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ২৭

হাঁসেদের সঙ্গে আমিও উড়তে লাগতাম। হাঁসেরা যখন হরিসভার পুকুরপাড়ে গিয়ে ঝপাং ঝপাং শব্দ করে সকালের রোদে জল ছিটিয়ে জলের মধ্যে পড়ত, আমিও তখন মাটিতে নেমে ব্রেক করে জলের ধারে দাঁড়িয়ে পড়তাম।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ২৬

আমরা যখন রংপুরে থাকতাম তখন মাঝে মাঝে মায়ের নামে বাবার চিঠি আসত। নীল কাগজে, মোটা কালিতে বাবা চিঠি লিখতেন। শেষবিকেলে বড় ঘরের ওপরের সিঁড়িতে বসে, খুঁটিতে হেলান দিয়ে মা সে চিঠি পড়তেন।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ২৫

একটা ঝকঝকে নতুন দু’নম্বর বাস গড়িয়াহাটের দিক থেকে এসে দাঁড়াল মোড়ে। এক সুন্দরী মহিলা নামলেন। ছিপছিপে চেহারা, পাটভাঙা তাঁতের শাড়ি, চোখে চশমা। বুকের কাছে গীতবিতান ধরা। ভদ্রমহিলাকে দেখেই আমার মনে হল, ইনি রবীন্দ্রনাথের নায়িকা।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ২৪

একটা বড় রয়্যাল বেঙ্গল টাইগার বাংলোর দিক থেকে আমাদের দিকে আসছে রাস্তা ধরে। বেশ বড় বাঘ। তার চোখে হেডলাইটের আলো পড়তেই আগুনের গোলার মতো লাল চোখদুটি জ্বলে উঠল। চিকন ভয় পেয়ে আমার দিকে সরে এসে আমার হাত চেপে ধরল।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ২৩

বাইরে আকাশে চাঁদটা আরও উজ্জ্বল হচ্ছে। গাছগাছালি সব রুপোঝুরি হয়ে গেছে। চাঁদের আলো গলে গলে পড়ছে পাহাড়ে, মাঠে, প্রান্তরে, উপত্যকায়। আমি চিকনকে বললাম, একটা গান শোনাও।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ২২

চতুর্দিক থেকে নানা পাখি ডাকছে। তাদের কলকাকলিতে সমস্ত বনচ্ছবি মুখরিত হয়ে উঠেছে। মাঝে মাঝে ময়ূর ডাকছে কেঁয়া কেঁয়া করে। তিতির ডাকছে টিউ টিউ টিউ করে। জংলি মোরগ কঁকর কঁ করে বিদায়ী সূর্যকে সেলাম জানিয়ে রাতে শোবার বন্দোবস্ত করছে।