বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা
Browsing Tag

বুদ্ধদেব গুহ

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ৩৭

বাবা কোনওদিন পছন্দ করতেন না এই নানারকম বাবা কিংবা মায়েদের কাছে ঘেঁষার। যে কারণে আমার মায়ের ইচ্ছে থাকা সত্ত্বেও আমার বাবা কোনওদিন মাকে কোনও বাবা বা মায়ের শিষ্যত্ব গ্রহণ করতে দেননি।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ৩৬

দু’পাশে খেতখামার, বিরল গাছপালা, ছোট ছোট কুঁড়েঘর, উট চরছে কোথাও, কোথাও বা মোষ। কোথাও আবার লম্বকর্ণ পাঁঠা, লাল-হলুদ শাড়ি পরা মেয়েরা, খেতের পাশে বেড়া, গ্রামের মধ্যে মধ্যে উঁচু উঁচু খুঁটির ওপরে লালরঙা পতাকা উড়ছে।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ৩৫

একদিন আমরা খবর পেলাম, সীতাগড়া পাহাড়ে একটি মস্ত বড় বাঘ এসে আস্তানা গেড়েছে এবং সেখানে যে পিঁজরাপোল আছে পাহাড়ের ওপরে সেই পিঁজরাপোলে গোরু যথেচ্ছ মারছে। কিছুদিন আগে দু-তিনটে মানুষকেও ধরেছে।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ৩৪

ভোলা যাওয়ার রাস্তায় একটা চর পড়ল, হাঁসে ভর্তি। ঠিক হল, বাবা ওয়ান টু থ্রি গুনবেন আর সকলে একসঙ্গে গুলি করবে, অনেক হাঁস মরবে। তাই হল। সবাই গুলি চালাল। কিন্তু সবক’টা হাঁস উড়ে গেল, একটা পালক পড়ে রইল।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ৩৩

প্রচণ্ড বড় দিঘি, তার দু’পারে দুটি করে বড় বড় ঘাট। একটি করে মেয়েদের ঘাট, একটি করে ছেলেদের। মেয়েদের ঘাটে ছেলেরা যেত না, মেয়েরাও যেত না ছেলেদের ঘাটে। সে দিঘিতে বহু মেয়ে-পুরুষ সাঁতরে স্নান করত।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ৩২

এ অঞ্চলে কুমির শিকার হলে কুমিরের পেট থেকে প্রায় সবসময়ই মেয়েদের নানা অলংকার পাওয়া যায়। কোমরের বাউটি, পায়ের মল, হাতের বালা, কখনও রুপোর বা পেতলের, পাওয়া যায়। এগুলো তো হজম হয় না, তাই থেকে যায় স্মৃতিচিহ্ন হয়ে।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ৩১

মেচ সর্দারের সঙ্গে আমাদের কোনওদিনই দেখা হয়নি। সর্দারের স্ত্রী উঠোনে বসে ঝরে পড়া লাল-কালো-হলুদ কাঁঠালপাতার মধ্যে নানারঙের মোটা সুতো দিয়ে তাঁত বুনতেন। তাঁদের পোশাক ছিল খাসি, গারো বা রাভাদেরই মতো।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ৩০

গুদামের উল্টো দিকে ছিল নানারকম ফুলের ঝাড়। যেমন রঙ্গন, কাঠটগর, হাসনুহানা আরও নানারকম নাম না জানা ফুলের ঝাড়। সেই প্রাঙ্গণটুকু পেরিয়ে গিয়ে ছিল অন্দরমহল। এই গুদামের শেষ অবধি ছিল বহির্মহল।

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ২৯

অন্ধকার নেমে আসছে। চতুর্দিক থেকে পাখিদের কলকাকলি মথিত করছে বন, পাহাড়। জোরান্ডা প্রপাতের শব্দ অন্ধকার বাড়ার সঙ্গে সঙ্গে জোর হচ্ছে। চিকন বলল, আপনার তো অনেক জ্ঞান। শিক্ষা সম্বন্ধে আপনার কী ধ্যানধারণা, একটু বলবেন?

শেষবিকেলে সিমলিপালে পর্ব ২৮

একদিন আমি দেখি, সন্ধের পরে আধো অন্ধকারে আমার সেই মাসিমা আর ছোটকাকু বাড়ির ছাদে দাঁড়িয়ে আছেন, কী কথা বলছেন। আমি দেখে নেমে আসি। বাড়ি ফিরে গল্পে গল্পে মাকে সেকথা বলেছিলাম। তার পরে কী হল জানি না।