বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা
Browsing Tag

গল্প

ভক্ষক

এবড়োখেবড়ো ঠান্ডা মেঝের ওপর পড়েছিল আধমরা রতন। পা-দুটো আর সোজা করতে পারে না আজকাল। এতবার, এতরকমভাবে তাকে শিক্ষা দেওয়া হয়েছে, আপত্তি জানানোর কোনও ভাষাই আর তার মনে নেই।

অভিমন্যু ও দেবদারু

দেবদারু গাছের ফাঁকে ফাঁকে প্রেমিক-প্রেমিকারা হাতে হাত ধরে বসে থাকে। লকডাউনে আনাগোনা কম। তবু মাস্ক পরে হলেও প্রেম ও শরীর বজায় রাখায় কোনও বিশেষ ঘাটতি নেই।

উনচল্লিশ কেজি

চা বিক্রেতা ছেলেটা চলে যায়। লালচাঁদ জুলুজুলু চোখে পথের দিকে চেয়ে থাকে। এই বুঝি কেউ এল, কেউ এসে ওজন করাবে বলে মেশিনের সামনে দাঁড়াল। সকাল থেকে বসে আছে, এখনও কেউ আসেনি ওজন করাতে গো, কেউ আসেনি।

শিরদাঁড়ার ফেরিওলা

বাবুসকল, গরিব মানুষের শিরদাঁড়া ভাঙতে কয়টা লকডাউন লাগে? ভাঙা মানুষের কথা বলি না৷ গরিব মানুষের কথা বলি৷ খেতে পায় না৷ কাজ নাই৷ কোথাও কাজ নাই৷ যার ছিল, তারও গেছে৷ স্কুল বন্ধ৷ কলেজ বন্ধ৷ পরীক্ষা বন্ধ৷ ট্রেন বন্ধ৷

পোর্ট্রেট

কুমারেশ একটা শিস শুনতে পাচ্ছিলেন। বুঝতে পারলেন, দোয়েলের শিস। কোথাও বসে আছে পাখিটা, গান গাইছে। দেখা যাচ্ছে না। না যাক। ওই পাখিটাই আঁকবেন তিনি। হ্যাঁ, তাই হোক।

কানা ময়ূরাক্ষী

আজও যখন চৈত্র সংক্রান্তির অপরাহ্নে পাটে বসেন পুরাতন বৎসরের সূর্যদেব, আমি স্পষ্ট দেখতে পাই সেই শিমুলপাড়ার শ্মশান। জ্যোৎস্না সুবাসে প্লাবিত চরাচরে একটি প্রাচীন অশ্বত্থ গাছের নীচে বসে রয়েছে কালাগ্নিরুদ্রের উপাসক মাধাই ডোম।

বুড়ো মাস্টার

বুড়ো মাস্টার একটু থমকে রইলেন। ইতস্তত করলেন খানিক। সুমনও একটুক্ষণ দাঁড়িয়ে রইল। তার ভেতরে একটা অস্বস্তি কাজ করছিল। মনে হল, একবার খোঁজ নেয়, ছানি কাটানোর পর চোখটা ভাল আছে কিনা।

দালির বিষয় আশয়

যেখানে পরীর লতার উপরিভাগে লম্বা আকর্ষ সমান্তরাল এগিয়েছে সেখান থেকে দু’পাট করে কাপড় মেলার মতো নীল ডায়ালের ওভাল শেপের ঘড়ি নেতিয়ে ঝুলে আছে। বিভাসের মনে হল, ঘড়ি তুলে নিয়ে সোজা করে মেলে দেয়, নইলে পচে গিয়ে পিঁপড়ে ধরবে।

নাবাল ভূমি

সেলিম একদিন স্কুল থেকে এসে বলল, জানিস ঝিনুক, আজ আমি ধানকাটা মেশিন দেখে এলাম। জৈথালির মাঠে মেশিন নেমেছে। কত উঁচু রে! রাস্তা দিয়ে যারাই যাচ্ছিল, দাঁড়িয়ে দেখছিল। বড় বড় জমিগুলো নিমেষেই শেষ করে দিচ্ছে।

উদ্বাস্তু

রাতের অন্ধকার। সামনে মাথায় টিনের ট্রাঙ্ক নিয়ে দ্রুত অথচ সন্তর্পণে এগিয়ে চলেছে বাবা। পিছনে বোনের হাত ধরে মা। কাঁচা মাটির রাস্তা। বর্ষার জলে পিচ্ছিল। বার বার পিছলে পড়ছে বোন। সবার পিছনে একটা বড় বোঁচকা মাথায় নিয়ে এক তরুণ।