বাংলায় প্রথম সম্পূর্ণ অনলাইন একটি সাহিত্য পত্রিকা
Browsing Tag

গল্প

অনির্বাণ, বেড়াল ও কুয়াশা

দু’জনের হাসি ছড়িয়ে পড়ে পুকুরের ঢেউয়ে। মাছগুলো লুকিয়ে যায়। কচ্ছপটা ঘুমের ভান করে। বকুল গাছের পাখিরা হাই তোলে। অনির্বাণ বলে, রাত হয়েছে। বড্ড খিদে পেয়েছে। চলো বাড়ি যাই।

ধূমকেতু

সেদিন কি তার চোখের পাতা একটু ভিজে উঠেছিল? দু’ফোঁটা জল কি গড়িয়ে গিয়েছিল কোণ দিয়ে? মনে নেই সুমন্তর। ঠিক যেমন মনে নেই হ্যালির ধূমকেতু শেষপর্যন্ত তারা দেখতে পেয়েছিল কিনা।

টান

সেই প্র‌থম বার কুট্টির গালে ঠাস করে চড় মেরেছিলেন। মেয়েটা কাঁদেনি, থম মেরে গিয়ে বোবা চোখে তাঁর মুখের দিকে চেয়ে ছিল। কুট্টিকে বুকে টেনে নিয়ে অনেকক্ষণ ধরে ফুঁপিয়ে কেঁদেছিলেন।

আলাউদ্দিন রোডের সেই মেয়েটি

দু-দিন মেহবুব বাড়িতে বসে থাকল, দিনরাত নিজের ঘরে বিছানায় শুয়ে, অফিসের ব্যাপারে মাকে কিছু জানাল না। কোনও অসুখও করেনি, মেয়ের আচরণ দেখে চিন্তিত হয়ে পড়ল মেহবুবের মা, অফিসে কিছু হয়নি তো?

সমুদ্র

এই প্রথম মুখোমুখি, চোখে চোখ। সে চোখের সামনে আগুন দেখল। ফাটাফাটি দেখতে। নাক, চোখ, মুখ, গায়ের রং এমনকি চুলের ঢালও। শুধু আসল নাম জানা নেই। তার দরকার নেই অবশ্য। তাদের কাছে বিউটি।

জোনাক জ্বলে উঠবে

দিনকে দিন হাঁড়ির অবস্থা খুব খারাপ হতে বসেছে। বাবা গঞ্জের একটা কাপড়ের দোকানে মাসমাইনের কাজ করে। সেই দোকান এক মাস হল বন্ধ। বাবা আগের মাসের বেতনটা খুঁজতে গেছিল। মালিক বলেছেন, এখন টাকা টাকা কোরো না তো। দেখতেই পাচ্ছ কী অবস্থা ব্যবসার।

দরজার এপাশে

খোলা পাল্লাটার গায়ে পিঠ ঠেকিয়ে দাঁড়িয়ে রয়েছে সে। সাদা রোগা হাতদুটো পিছনে। কোঁকড়ানো খোলা চুল কাঁধ ছুঁয়েছে। গায়ে একটা নাইটি। কালো না খয়েরি বোঝা যাচ্ছে না। তবে তার ওপর হালকা রঙের ছোট ফুলগুলো দেখা যাচ্ছে। সাদা ওড়না চাপানো বুকের ওপর।…

আশ্চর্য গোলক

অবাক হয়ে সোনাদার দিকে তাকিয়ে থাকে সাম্য। সোনাদা কি কোনও অলৌকিকতার কথা বলছে? এসব তো সোনাদা কোনওদিনই বিশ্বাস করে না। ব্যাপারটা ঠিক কী, বুঝে উঠতে পারছে না সাম্য। মণিবউদির দিকে ঘাড় ঘুরিয়ে সাম্য জানতে চায়, জিনিসটা কী?

হারিয়ে যাবার আগে

গোরু হাঁটিয়ে নিয়ে যাবার জন্য সে দুশো ও খোরাকি বাবদ পঞ্চাশ টাকা পাবে। আর হাঁটার ফাঁকে ফাঁকে সে নিজের জীবনকাহিনি বলে গোরুদের। গোরুরা তা শোনে আর মাথা নাড়ায়। এমন বন্ধু আর সমঝদার তার জন্য আর কে আছে?

রসদ

কাঠের টুলটার ওপরে কিছুক্ষণ ভুরু কুঁচকে বসে রইল মন্মথ। ভেবে দেখার চেষ্টা করল, বাচ্চুর ওপরে তার ঘেন্না হচ্ছে কিনা। কিন্তু না, ঘেন্না খুঁজে পেল না সে। রাস্তার উল্টোদিকের গাছটার দিকে তাকিয়ে মন্মথ আপনমনে বিড়বিড় করল, বাঁচতে হবে না? মরে গেলেই…