বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ১৬

আকাশ ঢাকা পড়ছে সবুজের মিনারে। যুগ যুগ ধরে তারা যেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। আদ্যিকালের বৃক্ষদের কাণ্ডগুলো শ্যাওলা জড়ানো। বাদামি শরীর জুড়ে সবুজের চিত্রাঙ্কন। আবার শুষ্ক কাণ্ডে ছত্রাকের মনমোহিনী ভাস্কর্য।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ১৫

গ্রামের ওপাশে চোখের সমান্তরালে ওই যে কালচে-সবুজ পাহাড়টা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, ওটাই চন্দ্রশিলা শৃঙ্গ, আমাদের ফাইনাল ডেস্টিনি। যেখান থেকে হিমালয়ের তিনশো ষাট ডিগ্রি কোণে চারপাশের তুষারধবল শৃঙ্গ দেখা যায়।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ১৪

তালের জল এখন অনেকটাই কম। ওপারে ঢেউ খেলানো সবুজ জমি। জমির ওপর গুটিকয়েক সোনালি রঙের তাঁবু। তাঁবু ছাড়িয়ে দেওদার-পাইনের সারি। তার মাথার মেঘ-পাহাড়ের দেশ। স্থির জলের প্রতিবিম্বে ধরা পড়েছে সব।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ১৩

সদ্যস্নাত দেওরিয়াতালের সবুজ মাঠে মনের আনন্দে ঘুরে বেড়াচ্ছে হিমালয়ের পাখিরা। ঢেউ খেলানো মাঠে একবার দেখা দিয়েই পরক্ষণেই দৃষ্টির আড়ালে চলে যাচ্ছে। ক্যামেরায় সহজে ধরা দিতে নারাজ।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ১২

এ অভিজ্ঞতা অন্যরকম! যাঁরা অন্তত এক রাত তাঁবুতে না কাটিয়েছেন তাঁদের সে অনুভূতি বলে বোঝানো মুশকিল। সিকিমের এক নির্জন পাহাড়ে জীবনের প্রথম যে রাত টেন্টে কাটিয়েছিলাম, উত্তেজনা আর রোমাঞ্চে সে রাতে ঘুম হয়নি।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ১১

গাছের পাতার ছায়ায় ডালে ডালে লাফিয়ে বেড়াচ্ছে ছোট ছোট পাখিরা। কেউ গাছের বাকলের ভাঁজে লুকিয়ে থাকা পোকা খুঁটে খুঁটে খাচ্ছে আবার কোনও পাখি ফুলের মধু সংগ্রহে ব্যস্ত। আমাদের আগমনে তাদের কোনও মাথাব্যথা নেই।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ১০

পুবের পাহাড় টপকে সকালের নরম রোদ্দুর ভিজিয়ে দিচ্ছে গ্রামের শরীর। চারদিকে হিমালয়ের পাখিদের কিচিরমিচির ঘুম ভাঙাচ্ছে গ্রামবাসীদের। টুকরি পিঠে গ্রামের মহিলারা ওপরের পাহাড়ে চলেছেন, বাড়ির পোষা পশুদের জন্য ঘাস আনতে।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ৯

ব্যাগ থেকে ক্যামেরা বের করে সেই মেয়েটির একটা ছবি তুললাম। এই ছেলেমানুষি দেখে সে তো হাসিতে লুটোপুটি। লজ্জায় লাল। অতঃপর হরিণ ছানার মতো লাফিয়ে লাফিয়ে পাথুরে সিঁড়ি দিয়ে নীচের গ্রামে ছুট।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ৮

গাড়োয়াল হিমালয়ের এই জঙ্গলের ওপর মানুষের লোলুপ দৃষ্টি সাম্প্রতিক নয়। উপর্যুপরি অত্যাচারে গত কয়েক দশকে সংকুচিত হয়েছে এই পাহাড়ের জঙ্গল। উত্তরাখণ্ডের মানুষজন একবাক্যে বলছেন, আজ হিমালয় পর্বতের সবচেয়ে বড় বিপদ ‘চৌড়ি সড়ক’।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ৭

শুনেছি উত্তরাখণ্ডের পাহাড়ে বিরামহীন গতিতে চলছে নগরায়ন। আসলে তথাকথিত ‘উন্নয়ন’-এর মানদণ্ডকে উঁচু, আরও উঁচুতে নিয়ে যেতে পাহাড় তথা প্রকৃতিকে ধ্বংস করছে মানুষ আর মানুষের সরকার।