বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

গাড়োয়ালের গহীন পথে শেষ পর্ব

যেন তড়িৎ বয়ে যায় শিরদাঁড়ায়! ইনি কি উত্তরাখণ্ডের সেই বিখ্যাত পক্ষীবিদ! যাঁর পাখি-প্রেমের কাহিনি বহুশ্রুত। পাখির ছবি তোলেন অথচ এই নামটির সঙ্গে পরিচয় নেই, ভূ-ভারতে এমন বার্ড ফটোগ্রাফারের দেখা কমই মিলবে।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ২৩

রাস্তার পাশে খানিকটা ফাঁকা জায়গায় দলবেঁধে গুটিকয়েক ঘোড়ার সমাবেশ। এই ঘোড়াগুলো নিচের গ্রাম চোপতা থেকে পুণ্যার্থীদের পিঠে করে নিয়ে এসেছে। ফিরতি পথের অপেক্ষায় তারা দাঁড়িয়ে বিশ্রাম নিচ্ছে।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ২২

রাত্রে এখানকার তাপমাত্রা বেশ নেমে যায় আবার দিনের বেলায় ন্যাড়া পাহাড়ে চড়া রোদের ভ্রূকুটি! দিন-রাতে তাপমাত্রার এই পার্থক্যও হয়তো প্রভাব ফেলে পাহাড়ের শরীরে। তাই হয়তো ঘাসেদের এই বর্ণময় সাজ!

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ২১

একটা সময় চারদিক ন্যাড়া হতে শুরু করল। পথের দু’পাশের পাহাড়ে আর সবুজের সমাবেশ নেই। রুক্ষ পাহাড়ের গা বেয়ে সাবধানে পা ফেলে ওঠা। মুহূর্তের ভুল মানে হয় ক্ষতবিক্ষত হয়ে পড়ে থাকা, নয়তো পাশের অতলান্ত খাদে।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ২০

অস্তমান সূর্যের অতুলনীয় সৌন্দর্য উপেক্ষা করার সাধ্য কী কোনও মানবমনের আছে? রক্তিম সূর্যের প্রভা এঁকেবেঁকে চলে গিয়েছে আকাশের অনেক দূরে। চেনা পৃথিবীটাকে মনে হচ্ছে অনেক বেশি অচেনা। এক গভীর ভাললাগার আবেশে আবিষ্ট হয় মন।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ১৯

কুকুরগুলোর গলা ঢাকা রয়েছে লোহার তৈরি চওড়া বেষ্টনীতে। মেষপালক বললেন, ওগুলো চিতাবাঘের আক্রমণ থেকে ওদের প্রাণ বাঁচানোর একটা পন্থা। তার অর্থ, এই পাহাড়ে চিতাবাঘ এখনও জীবিত আছে। মেষপালক ওপর-নীচে মাথা দোলান।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ১৮

এরোপ্লেন উড়লে তো তার শব্দ থাকবে। সেরকম কোনও শব্দ তো কানে এল না! ঘাড় উঁচিয়ে আকাশের পানে তাকাতেই চমক। দৈত্যাকার এক পাখি তার বিশালাকার দুই ডানা মেলে উড়ে যাচ্ছে। আর তার পিছু পিছু এক পাহাড়ি কাক।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ১৭

নিঝুম অরণ্যপথে প্রায় ঘণ্টা তিনেক হাঁটার পর একসময় হঠাৎ করেই যেন পাহাড় অরণ্যের সীমানা টানল। জঙ্গল শেষ হয়ে চোখের সামনে হাজির এক সমতলভূমি। সম্পূর্ণ উন্মুক্ত। বুঝলাম আমরা পাহাড়টার ঠিক মাথায় উঠে এসেছি।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ১৬

আকাশ ঢাকা পড়ছে সবুজের মিনারে। যুগ যুগ ধরে তারা যেন অতন্দ্র প্রহরীর মতো দাঁড়িয়ে রয়েছে। আদ্যিকালের বৃক্ষদের কাণ্ডগুলো শ্যাওলা জড়ানো। বাদামি শরীর জুড়ে সবুজের চিত্রাঙ্কন। আবার শুষ্ক কাণ্ডে ছত্রাকের মনমোহিনী ভাস্কর্য।

গাড়োয়ালের গহীন পথে পর্ব ১৫

গ্রামের ওপাশে চোখের সমান্তরালে ওই যে কালচে-সবুজ পাহাড়টা মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে, ওটাই চন্দ্রশিলা শৃঙ্গ, আমাদের ফাইনাল ডেস্টিনি। যেখান থেকে হিমালয়ের তিনশো ষাট ডিগ্রি কোণে চারপাশের তুষারধবল শৃঙ্গ দেখা যায়।