বা়ংলার প্রথম পূর্ণাঙ্গ ডিজিটাল সাহিত্য পত্রিকা

মিলন হবে কত দিনে

আমার মেয়ে মরল, আমি ট্যাকা দেব? তোদের ফিকির আমি ধরতে পারছি, আমার বুকি আগুন জ্বলতেছে, আমার বুকের ভিতরে গোরস্থানের ভাব হচ্ছে। দারোগা বের করুক, কেন মরল মেয়ে।

মিলন হবে কত দিনে

তাড়াতাড়ি সন্ধে হয়ে এল। মাছেরা ঘাটের কাছে এসে খেলছিল। আমি দেখছিলাম। একটা জলঢোঁড়া সাপ ঘুরঘুর করছিল মাছের জন্য। এই সময় দুই ভাইয়া এয়েছে যে, টেরও পাইনি। একজন রব আর অন্যজন শহিদুল।

মিলন হবে কত দিনে

আঁখিতারা সারাদিন এ ঘর ও ঘর, সিঁড়ি দিয়ে দোতলা, বাইরের বাগান, পুকুরপাড় করে বেড়াত। মরিয়ম তাকে লেখাপড়া শেখাত। বর্ণপরিচয়, প্রথম ভাগ, দ্বিতীয় ভাগ। ধারাপাত। একে চন্দ্র, দুয়ে পক্ষ...।

মিলন হবে কত দিনে

মরণের পর যা থাকে তা হল অমাবস্যার রাতের আকাশ, তার সীমা-পরিসীমা নেই। তারারা আমার অক্ষর বিমল, রাতের আকাশে আমি লিখছি যা সব কোনও না কোনও বইয়ে পেয়ে যাবে। করুণ গলায় বলেছিল আঁখিতারা।

মিলন হবে কত দিনে

সুচরিতাদের বাড়ি ছিল ঢাকুরিয়া। ঢাকুরিয়ার ভেতর ছিল তখন প্রায় হোগলা বন। সুচরিতা পড়তে আসত গড়িয়া এন্ড্রুজ কলেজে। কলেজের সহপাঠিনী। সম্পর্ক হয়েছিল আবছা কিংবা অস্পষ্ট।

মিলন হবে কত দিনে

উপায় তো একটা বের করতে হবে। লোকে ভগবান স্মরণ করে বিপদের সময়। বিমল বুঝেছিল, ভগবান দিয়ে কাজ হবে না। ভগবানের ক্ষমতা নেই অখিল প্রোমোটারের হাত থেকে তাকে বাঁচায়। তাহলে কে?

মিলন হবে কত দিনে

বইঘর। কত বই ঘরের চার দেওয়ালজুড়ে। একেবারে মাটি থেকে সিলিং অবধি। তা বাদে ঘরের মেঝেতেও বই। তিনটি বেতের চেয়ার, বেতের টেবিল। অখিল বলেছিল, এই সব বই আপনি পড়েছেন?

মিলন হবে কত দিনে

ফোন নিয়ে বিমল ব্যালকনিতে আসে। দেখল নীচে, ভাঙা প্রাচীরের বাইরে মোটর সাইকেল দাঁড় করানো। তার পাশেই অখিল দাস। বেশ স্বাস্থ্যবান। নিয়মিত ব্যায়াম করা শরীর। ভুঁড়ি আছে অল্প। চোখের সানগ্লাস টি-শার্টের পকেটে।

মিলন হবে কত দিনে

বিমলের মা-বাবা মরে গেছে। তার দুই ভাই আছে, একজন বড় অমল, অন্যজন ছোট কমল। তারাও আছে, সম্প্রতি এই হাভেলি ত্যাগ করে কাছাকাছি থেকেও যোগাযোগহীন। বোন আছে অন্নপূর্ণা, বিমল-কমলের মাঝখানে সে।