বাংলায় প্রথম সম্পূর্ণ অনলাইন একটি সাহিত্য পত্রিকা

সম্পাদকীয়

শুরু হোক পাঠকের সুখপাঠ

সাহিত্যের সবই সুখপাঠ্য নয়। যে কোনও পাঠকই বলতে পারেন এমন কথা। তবে সে কথা বোধহয় বাইরের। সৃষ্টি যদি অনাসৃষ্টি না হয় তা হলে তার রস মনের ভেতরে চারিয়ে যাওয়া তো একরকমের সুখই। সৃষ্টির ধরন নানারকম হতে পারে কিন্তু শিল্পের গভীরের সত্যটি প্রকৃত পাঠককে নিশ্চয়ই সুখ দেয়। 'সুখপাঠ ' সেই সুখে বিশ্বাসী। চেতনায় অবিশ্বাসকে সে অসুখ বলেই ধরবে।

সময়ের দাবিতে 'সুখপাঠ' তার চেহারা -ছবিতে অনলাইন বা ডিজিটাল। তবে চরিত্রে সে সোনার পাথরবাটি নয়। খাঁটি। তার হাত ধরেই এখানে লেখা প্রকাশের একটি নতুন রীতির মুখোমুখি হবেন পাঠক। ফলে পাঠের যে চলতি অভ্যেস সেখানেও খানিকটা সিজিলমিছিল হবে। এই পত্রিকা মাসিক, পাক্ষিক অথবা সাপ্তাহিক পত্রিকার ধরাবাঁধা নিয়মের বাইরে। এখানে কোনও লেখা প্রকাশিত হবে মাসে একটিই। অন্য কিছু লেখার দুটি পর্ব পড়া যাবে পনেরো দিনের তফাতে। আবার বেশ কিছু লেখা থাকবে প্রতি সপ্তাহে। বাঙালির রোজকার জীবনের অন্য সব অভ্যেসের সঙ্গে জড়িয়ে থাকুক সাহিত্যের পাঠ, এমন ভাবনাই এই নতুন রীতির সূত্র। তা ছাড়া শুধু লেখাই তো নয়। ছাপা পত্রিকার সঙ্গে বিশেষ এক ফারাক চেনা দেবে এখানে। চলচ্চিত্রের, ভ্রমণের এবং পরিবেশের ছোট ছবিও দেখতে পাবেন পাঠক। শুনবেন 'গল্পপাঠ '। সেখানে বিশিষ্ট লেখকদের গল্প প্রখ্যাত অভিনেতা ও বাচিক শিল্পীদের কণ্ঠে গড়ে তুলবে দ্বিতীয় ভুবন। 'সুখপাঠ ' যে অন্যরকম তা বলার জন্য শুরুতেই এইসব কথা পাঠক সমীপে।

শুরুর এই সময়টা অবশ্য বেশ কঠিন। যদিও ইতিহাস সাক্ষী, শিল্প -সাহিত্য কঠিন সময়েরই জাতক। পৃথিবীর গভীরতর অসুখ এখন। তার দায় ঝেড়ে ফেলতে না পেরে মানুষের মনে ভয়। মুখে মুখোশ। পৃথিবীর ছাল -বাকল তুলে ফেলে তার যে অবস্থা আমরা করেছি তাতে হয়তো এমনই হওয়ার ছিল। আশা আর আশঙ্কার তফাত আমরা বুঝিনি।

তবে শরীরের যে অসুখকে বাইরে দেখা যাচ্ছে তার চেয়েও বড় অসুখ আছে মনের ভেতরে। আমরা মেশামেশি থেকে দূরে থাকার কথা বলছি অথচ ভালবাসা ও বিশ্বাসের অভ্যেস ছেড়েছি বলে মনের সঙ্গে মনের দূরত্ব তৈরি করে ফেলেছি বহু আগেই। হাত ধুয়ে নেওয়া সহজ। মন ধুয়ে নেওয়া বড় শক্ত কাজ। সেই কাজেই রত থাকা যায় যদিও। চারপাশের মানুষজনের কথা ভাবার জন্য সেও তো আসলে এক পাঠ। শিল্পের বোধ, সংস্কৃতির শিকড়, সাহিত্যের ভাবনা মানুষের কাছে তেমনই যেমন গাছের শরীরে রোদ, জল, হাওয়া। ক্লোরোফিল তাজা রাখার জন্য এর চেয়ে ভাল আর কী হতে পারে।

হে প্রিয় পাঠক, শুরু হোক আপনার সুখপাঠ।

অরিন্দম বসু,
সম্পাদক