বাংলায় প্রথম সম্পূর্ণ অনলাইন একটি সাহিত্য পত্রিকা

পাপীতাপী ও যোগিনী – ২

অভিজিৎ সেন
নদীর দিক থেকে ক’টা ফটফট আওয়াজ এগিয়ে আসতে লক্ষীতারা সচকিত হয়ে উঠল। আওয়াজটা ক্ষীণ থেকে অতিদ্রুত উচ্চগ্রামে ওঠাতে বিনায়ক বুঝতে পারল শব্দটা এগিয়ে আসা একটা ভুটভুটি নৌকার। ভুটভুটি এইসব অঞ্চলে সবে চালু হয়েছে।
লক্ষ্মীতারার অস্থিরতা এবং খানিকটা বিমূঢ়তা বিনায়কের নজর এড়ায়নি।
হঠাৎ দরজা দিয়ে একটি বছর পনেরো-ষোলোর মেয়ে মুখ বাড়িয়ে দিয়ে বলল, উস্যাব ফের আবাগে মাই!
তার কণ্ঠস্বরে প্রবল উৎকণ্ঠা।
তোর বাপ কাঁহাঁ মে?
ভ্যাঁইসা লে কে চ্যারমে গেলে।
গঙ্গাদাস ভি ন্যাইয়ে?
ততক্ষণে বাইরের উঠোনে দুয়াররক্ষী স্ত্রীলোকটির সঙ্গে আগন্তুকদের অধৈর্য কথাবার্তা শুরু হয়ে গেছে। দ্বাররক্ষী স্ত্রীলোকটির প্রতিবাদ সত্ত্বেও বোঝা গেল এক বা একাধিক ব্যক্তি এই ঘরের দিকে এগিয়ে আসছে। তাদের আটকানো যাবে না বুঝে লক্ষ্মীতারা তার মেয়েকে ঘরের ভেতরের দিকের একটা দরজা দেখিয়ে বলল, ঢুকি যো!
মেয়েটি সেই ঘরে ঢুকতে না ঢুকতেই বাইরের দিকের দরজার সামনে দীর্ঘদেহী এক বৃদ্ধ এসে দাঁড়াল। বৃদ্ধ হলেও এ ব্যক্তি প্রবল হাবভাব ও হাঁকডাকের মানুষ। একটু উঁচু করে পরা ধুতি এবং খাটো মোটা কাপড়ের পাঞ্জাবি তার পরনে। পিঠে ঝোলানো বন্দুক। সে বাইরের দিকে গিয়ে বিশ-বাইশ বছর বয়সের এক তরুণকে টানতে টানতে একেবারে ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে দিল। মুখে বলল, হেগে ভোলেয়া মাই, ছাউড়্যাকে ইলাজ নাই হোতে তু বললি?
পিছন থেকে দ্বাররক্ষী স্ত্রীলোকটি সরোষে বলল, বন্দুক লেকে ভিত্‌রি মে মাৎ যো চৌধারিজি!
লোকটি পিছন ফিরে তাকে একটা গালি দিলেও দরজার বাইরেই দাঁড়িয়ে থাকল। আর তার বাঁ হাতে টেনে আনা ছোকরাকে ধাক্কা দিয়ে ঘরের ভেতরে ঢুকিয়ে দিল। ঘরের মধ্যিখানে সেই ছোকরা ধপ করে বসে পড়ল। সে যথার্থই বিধ্বস্ত এবং কোনও এক অজ্ঞাত ভয় অথবা গ্লানি অথবা আত্মধিক্কার অথবা এর সবক’টাই তার শরীর ও মুখমণ্ডলে আষ্টেপৃষ্ঠে আঁকড়ে ছিল।

একপাশে দেওয়ালের সঙ্গে প্রায় মিশে বসে থাকায় চৌধারি ভেতরের অন্য আগন্তুকদের দেখতে পায়নি। কিন্তু মাঝখানে আহত জন্তুর মতো জবুথবু হয়ে বসা যুবক তাদের দেখতে পাচ্ছিল। তাতেও অবশ্য তার মুখের ভাবের কোনও ব্যতিক্রম হয়নি। সে আকুল আগ্রহে লক্ষ্মীতারার মুখের দিকে তাকিয়ে ছিল।
দেবীর চেহারা আরও কর্তৃত্বময়, আরও দৃঢ় হয়ে উঠল। সে সরোষে বলল, ই ছাউড়্যাকে চাচ্চাকে হাম্যা তো বলি দেলিয়া যে একরাকে ইলাজ হাম্যার কাম নাইয়ে। একরা ডাক্তারকে ভির লে যা!
বৃদ্ধ চৌধারি তার দম্ভ না ছাড়লেও মনে হল, সামান্য আপোসের সুর আনল তার কণ্ঠস্বরে। বলল, দেখ ভালেয়া মা, ইস্যাব মনকে রোগকে বাস্তে না ক্যাধিও ডাক্তারভির গেলিও, না ক্যাধি যাব। হাম্যাসব তোর মা আর ওক্যার মাকে ভিরমে দু-একবের ইস্যাব কাম লেকে অ্যালিয়ে। ইস্যাব কামকে বাস্তে তোর স্যাবকে বন্‌শ্‌ সৎবন্দি হ্যাও! হ্যাঁ—
লক্ষীতারা গলার স্বর তুলে দৃঢ়তার সঙ্গে বলল, ক্যাহিকে সৎবন্দি? কে কার সঙে সৎবন্দি? খুনি, লুটেরা আর বলাৎকারী ভিরমে সৎবন্দি! লে কে যো ওকর‍্যা হিঁয়াছে! উঠাও!
দেবী নিজেই উঠে দাঁড়াল।
চৌধারি বলল, হে ভোলেয়া, ই ঘবুমকে তোর গোরমে র‍্যাখিকে গেলিও। ইবের তু যে বুঝ!
স্পষ্টই চৌধারি ভীত। ফলে আর এক ধরনের কৌশল অবলম্বন করে শক্ত নাগরা জুতো খটখট করতে করতে বাইরের দিকে দ্রুত চলে গেল সে তার সঙ্গীদের উদ্দেশে।

চৌধুরী চলে যেতেই ছোকরা আরও অসহায় হয়ে একেবারে দেবীর পায়ের ওপর ঝাঁপিয়ে পড়ল।
লক্ষীতারা এক পা পিছিয়ে গিয়ে বলল, ছোঁও মৎ, মৎ ছোঁও হাম্যাকে।
খুব আশাহত হয়ে যুবক হাউমাউ করে কেঁদে উঠল। লক্ষীতারা তার জলচৌকির আসন থেকে নেমে সম্ভবত তার দ্বাররক্ষী স্ত্রীলোকটিকে ডেকে বলল, সীতিয়া, চৌধারিকে পোত্তাকে বাহার ক্যারি দে।
বলে ছোকরাকে আর কোনও সুযোগ না দিয়ে সে দ্রুত পাশের খুপরি ঘরে ঢুকে গেল। ফের একবার মুখ বের করে বলল, বিনয়বাবু, সাহাবকে লেকে কাল একেবার আসো। কাল বাত করব।
বিনায়ক বাইরে এসে দেখল পাঁচ বন্দুকধারী চৌধারি উঠোনে ছড়িয়ে-ছিটিয়ে বসে অথবা দাঁড়িয়ে। সম্ভবত লক্ষ্মীতারার কাছে এসে শেষপর্যন্ত চৌধারির পোতার কী গতি হল সেটা বুঝে তারা ফিরে যাবে। সব ক’জন আগন্তুকের চেহারায় দাম্ভিক বেপরোয়া শক্তির অভিব্যক্তি। উচ্চস্বরে কথা বলছে, ঠা-ঠা করে হাসছে এবং রঙ্গ-রসিকতা করছে।
একজন বিনয়ের উদ্দেশে বলল, এ লংড়ে, ই সাহাব কোন হলই?
বিনয় সন্ত্রস্ত গলায় বলল, হামরে বেঙ্ককে অডিটর সাহাব চৌধারিজি। বলে সে দ্রুত তার লাঠিতে ভর দিয়ে এগোতে লাগল।
লক্ষ্মীতারার বাড়িটি বেশি উঁচু অবস্থানে থাকার ফলে সেখান থেকে নামার সময় মধ্যাকর্ষের ফলে গতি দ্রুত হয়ে যায় কিছুটা। বিনয়ের পক্ষে দ্রুততা খুব বিপজ্জনক। কিন্তু তার ত্রাস তাকে সতর্ক থাকার কোনও সুযোগই দিল না। তাড়াতাড়ি করতে গিয়ে তার ভরবেগ তাকে মাটিতে আছড়ে ফেলল। আছড়ে পড়েও খানিকটা দূর পর্যন্ত সে ছেঁচড়ে চলে গেল।
চৌধারিরা এতে প্রভূত মজা পেল। তারা সমস্বরে ঠা-ঠা করে হেসে উঠল। একজন আবার বেশ উচ্চস্বরে বলল, এ কেশিয়ার, কমর অউর টেংরি মে তাকাত বাড়া, নেহি তো অডিটর তোহারকো জরু লেকে ভাগ যায়গা— হা-হা-হা-হা!
বিনয়কে মাটি থেকে তুলে ঝেড়েঝুড়ে ব্যাঙ্কের আস্তানার দিকে নিয়ে চলে গেল বিনায়ক। বিনয়ের চোখ-মুখের চেহারা আতঙ্কে এবং আশঙ্কায় শুধু যে ভীত হয়েছে তাই নয়, কেমন যেন পাগল পাগলও লাগছে তাকে।
লক্ষীতারার বাড়ি দৃষ্টির আড়ালে যেতে বিনয় একটু একটু করে স্বাভাবিক হয়ে উঠতে লাগল। সে বলল, এরা সব ভয়ঙ্কর লোক দাদা, গঙ্গার ওপারে সাহেবগঞ্জের চরে থাকে পুলিশের হামলা এড়াবার জন্য। লুটমার, বলাৎকার, খুন, এসব এদের কাছে কোনও ব্যাপারই না।
চৌধারির নাতি সম্পর্কে বিনায়কের কৌতূহল জন্মেছিল। সে জিজ্ঞেস করল, চৌধারির পোতার কেসটা কী? কেমন যেন গোলমেলে মনে হল!
বিনয় সভয়ে একবার পিছন দিকে তাকিয়ে স্বগতোক্তির মতো বলল, না, ওরা তো গঙ্গা দিয়ে নৌকা করেই যাবে।
নিজের কানকে কথাটা শুনিয়ে একটু যেন আশ্বস্ত করল নিজেকে। পরে বলল, দিন দশেক আগে সাহেবগঞ্জের গঙ্গা কিনারে বিঘা পাঁচেকের একটা চর নিয়ে একটা ভয়াবহ দাঙ্গা হয়েছে। তিন-তিনটা খুন হয়েছে! এই চৌধারিরা সেই চরটা দখলে নিয়েছে। শুনেছি চরটা পুরো জাগলে বিশ-পঁচিশ বিঘার সম্পত্তি হবে। ওই বুড়ো চৌধারি ভয়ঙ্কর লোক। জমির জন্য, চরের জন্য না পারে হেন কাজ নেই। গত পনেরো বছরে ওর নিজেরও দুটো ভাই মরেছে এই চরের দাঙ্গাবাজিতে। তবুও এসব থেকে এই বয়সেও সরে থাকতে পারে না।
বিনায়ক বলল, তা হলে চৌধারির নাতি সেই ঘটনার পরোক্ষ ভিকটিম?
বিনয় সমাজের পিছিয়েপড়া অংশের মানুষ। কিন্তু সে কলেজে পড়েছে। তার মানসিক রোগের ব্যাপারটা সমাজের যে কোনও স্তরেই হওয়া সম্ভব। তবুও ‘পরোক্ষ ভিকটিম’ শব্দটা বুঝতে তার একটু সময় লাগল। অথবা চর দখলে চৌধারির নাতির ভূমিকাটা পরোক্ষ ছিল, না প্রত্যক্ষ, এটা অডিটর সাহেবকে একটু বোঝানো দরকার, সে মনে করল।
সে বলল, চৌধারির পোতা ভরত এই চর দখলের হাঙ্গামায় সঙ্গী ছিল দাদা। সম্ভবত এই অভিযান ছিল তার দাঙ্গাবাজিতে হাতেখড়ি। কিন্তু ভরতের মনটা বোধহয় আমার মতোই দুর্বল।
কথাটা বলে বিনয় একটু হাসল। বিনয়ের হাসিটা চালাক লোকের হাসির মতো নয়। বরং বলা ভাল খানিকটা শিশুর মতো, খানিকটা নির্বোধ মানুষের মতো। নার্ভাস, করুণ। কথাটা বলে দাঁত বের করে হেসে সে তাকিয়ে রইল বিনায়কের মুখের দিকে।
বিনায়ক বুঝল ব্যাপারটা। বলল, অর্থাৎ ভরত যেকোনও কারণেই হোক, সে নিজেকে বিহারের ভূস্বামীদের বীরগোত্রের অন্তর্ভুক্ত প্রমাণ করতে ব্যর্থ হয়েছে। সে ভেঙে পড়েছে এবং তার বাপ ও দাদার মতো এ একধরনের মানসিক রোগবিশেষ। তাই?
বিনয় বলল, ঠিক ধরেছেন দাদা। বিহারে ভূমিহারদের অন্য জাতেরা এই বলে নিন্দা করে যে ভূমি হরণ যারা করে তারা হল ভূমিহার বা ভুঁইহার। এই চৌধারিরা শুধু হরণ করে না। জাল, জোচ্চরি, বলপ্রয়োগ, প্রতিপক্ষের স্ত্রী হরণ, খুন, ধর্ষণ, এর সবই জমি দখলের জন্য করতে পারে এবং মনে করে যে এসবই অত্যন্ত স্বাভাবিক কাজ। এসব করতে হবেই এবং তার জন্য মনকে শক্ত করতে হবে।
বিনয় গঙ্গাপারের সমাজে চাঁই মণ্ডল অবস্থানের মানুষ। মুর্শিদাবাদের গঙ্গাতীরবর্তী অঞ্চল থেকে বিহারের প্রায় শেষ প্রান্ত পর্যন্ত এই নিম্নবর্গীয়রা কৃষি উৎপাদনে নিযুক্ত এক বিশিষ্ট সম্প্রদায়। সমাজে নিম্নস্থানবর্তী বলে চৌধারিদের প্রতি একটা তীব্র জাতক্রোধ আছে। শিক্ষার অঙ্গন তাকে এই ক্রোধ প্রকাশের অধিকার দিয়েছে সম্ভবত।
বিনয় বলল, বুড়া চৌধারি ভেবেছে দু-চারবার এরকম হাঙ্গামায় গেলেই তার পোতা চাঙ্গা হয়ে উঠবে। কিন্তু দাদা, ওই ছেলেটাকে দেখে আমার তেমন মনে হয়নি। মনের রোগ সহজে সারে না। কখনও কখনও সারাজীবনে সারে না। আর এটা কি মনের রোগ? তিনটা খুন হয়েছে, তার মধ্যে একটা ছেলে ওর থেকেও বয়সে ছোট। গোপালপুরে আমাদের একটা ব্রাঞ্চ ছিল, আপনার মনে আছে?
হ্যাঁ, সে তো বেশ কয়েক বছর আগের কথা। বিনায়ক বলল, সেবার তো শুনেছিলাম গোপালপুরের পুরো গ্রাম, আমের বাগান, সবজির খেত পুরোটাই গঙ্গার ভাঙনে তলিয়ে গিয়েছিল। তাতে কী?

চাকরির সেই প্রথম যুগে, বিনায়ক যখন মথুরাপুরের ব্রাঞ্চ ম্যানেজার, সেবার মানিকচকের গোপালপুর অঞ্চলের দিকে গঙ্গা পাড় ভাঙতে শুরু করে। ভাঙতে ভাঙতে পুরো গ্রামটা কৃষিখেত, আমের বাগান সমেত খেয়ে নিল গঙ্গা। সে বছরেই শীতের শেষ দিকে একবার একটা ঋণ এনকোয়ারি করতে ওদিকে গিয়েছিল বিনায়ক। সঙ্গী ছিল পঞ্চায়েতের এক সদস্য এবং ব্লকের একজন এক্সটেনশন অফিসার। গঙ্গার পাড়ে গিয়ে বিনায়ক বিস্মিত হয়েছিল, কোথায় ছিল তাদের গোপালপুর ব্রাঞ্চের অফিসটা!
গঙ্গা প্রশস্ত হয়েছে এখানে। পাড় থেকে এক-দেড়শো হাত দূরে গঙ্গার জলের প্রায় পঁচিশ-ত্রিশ হাত ওপরে একটা নিঃসঙ্গ টিউবওয়েল দাঁড়িয়ে আছে। চারদিকে গঙ্গার জল। তার ভেতর থেকে একটা পাইপ সোজা ওপর দিকে উঠে গেছে, তার ওপরে একটা টিউবওয়েলের মাথা।
শুধু বিনায়ক নয়, নতুন মানুষের কাছে একটা ভৌতিক অস্তিত্ব যেন ওই টিউবওয়েলটার।
পঞ্চায়েতের মেম্বারকে ঠিক এই কথাটাই জিজ্ঞেস করেছিল বিনায়ক। মেম্বার বলেছিল, ও হো, আপনি চিনবার পারছেন না, ওটা আপনাদের গোপালপুর ব্রাঞ্চের টিউবওয়েল।
গোপালপুর ব্রাঞ্চের! বিনায়ক বিস্ময় আড়াল করেনি। বলেছিল, ওখানে এখন জল কত হবে?
মেম্বার সোজা হিসেব করে দেখিয়েছিল। বলেছিল, আমাদের এদিকটায় আড়াই পাইপ- তিন পাইপে টিউবওয়েলে ভাল জল পাওয়া যায়। ওই যে কলটা দেখতে পাচ্ছেন, ওটা অন্তত দেড় পাইপ, মানে ত্রিশ-বত্রিশ ফুট জলের ওপরে আছে। ব্যাঙ্ক যাতে তাড়াতাড়ি খোলে সে কারণে পঞ্চায়েতের তরফ থেকে আমি এই টিউবওয়েল বসাবার দায়িত্বে ছিলাম। তিনখানা পাইপ আর দু’খানা ফিল্টার, মানে প্রায় একশো ফুটের কাছাকাছি মাটির নীচে ছিল। সেখানে এখন তিরিশ ফুট জলের ওপরে, বাকিটা জলের ভেতরে এবং মাটির নীচে আছে।
একটু বেশি কথা বলা মানুষ ছিল লোকটি। কিন্তু কাজে কথা বলার লোক নয়।
আগের কথার রেশ টেনে পাড়ের কাছে স্নানরত একজনকে বলল, গোলোক, পাঁচ হাত এগিয়ে গিয়ে দেখা তো জল কত গভীর।
গোলোক নামক যুবকটি হাত পাঁচ-ছয় দূরে গিয়ে ধীরে ধীরে জলে ডুব দিল হাত খাড়া রেখে। হাত অদৃশ্য হয়ে গেল।
ভেসে উঠে সে বলল, হাতের ওপরে আরও তিন-চার ফুট হবে।
সদস্য হিসেব করে বলল, তার মানে ও যেখানটা দেখাল সেখানটা অন্তত দশ ফুট গভীর। ওখান থেকে ওই টিউবওয়েল অন্তত তিরিশ ফুট দূরে। গোলোকের থেকে তিরিশ ফুট দূরের জলের গভীরতাও ঢালের ভাঙনের হিসেবে তিরিশ-চল্লিশ ফুট হবে। তার মানেটা দাঁড়াল যে ঐ টিউবওয়েলের গোড়ার অন্তত তিরিশ-চল্লিশ ফুট এখনও মাটির গভীরে। হেঁ—হেঁ—
জটিল হিসেব করার সাফল্যে লোকটি পরিতৃপ্তির হাসি হাসল।
তাকে সমর্থন ও বাহবা দেওয়ার ভঙ্গিতে বিনায়ক বলেছিল, বাপরে! এত জল!
লোকটি বলেছিল, কত বড় ভাঙন তা হলে হিসেব করেন। এই ভাঙনের চর যেদিন জাগবে সেদিন সেই নয়া গোপালপুরের চরের দখল নিয়ে কত মানুষ খুন হবে কে জানে!

বিনয় বলছে এখন সেই গোপালপুরের চর জাগার গল্প, দাঙ্গার গল্প। গল্প আরও কত দিকে পল্লবিত হবে। চৌধারির পোতা সবে ভোলেয়ার কাছে এসেছে। আরও হয়তো কেউ কেউ মন কা ইলাজের জন্য। আর মনের চিকিৎসায় ভোলেয়া মায়ের থেকে ভাল আর কে আছে?
দুজনে নীচের জমির পায়ে চলা পথ অতিক্রম করে বাঁধের ওপরে উঠে এল। তারা যাবে বাঁধের রাস্তা ধরে বাঁদিকে। খানিক দূর এগিয়ে বিনায়ক দূরের গঙ্গার দিকে ঘুরে দাঁড়াল।
গঙ্গা এ জায়গা থেকে আরও খানিকটা দূরে। নদী এখান থেকে ধীরে ধীরে বাঁদিকে বাঁক নিয়েছে। বাঁক নেওয়ার কিছুটা আগে দ্বীপের ভেতরে একটা ফালি লেগুনের মতো ঢুকে গেছে। পরিষ্কার বোঝা যায় গঙ্গার জল বাড়লেই জায়গাটা জলমগ্ন হয়, আবার কমলে লেগুনটা পরিষ্কার আকৃতি পায়।
সেই লেগুনের দু’পাশে বিস্তীর্ণ জায়গায় এই মুহূর্তে কাশের জঙ্গল। কাশফুলের স্বর্গীয় উদ্যান। আকাশের সাদা মেঘের সঙ্গে যেন যুগলবন্দি।

মোহনপুরার ভৌগোলিক অবস্থান পশ্চিমবঙ্গের মধ্যে হলেও লোকাচার এবং সামাজিক রীতিপদ্ধতি সবই সংলগ্ন বিহার অঞ্চলের অথবা মিশ্র চরিত্রের। দু-তিন ঘর ব্রাহ্মণ বাদে অন্য কোনও উচ্চবর্ণের অস্তিত্ব দ্বীপে নেই। ব্রাহ্মণদের মধ্যে একজনও বাঙালি নেই। হিন্দুদের মধ্যে চাঁই এবং বিন্দই সংখ্যাগরিষ্ঠ। কয়েক ঘর গোপালক ঘোষও আছে। মুসলমানদের সংখ্যাও বেশ উল্লেখযোগ্য। মুসলমান সমাজে তারাও নিম্নবর্ণ হিসেবে গ্রাহ্য। নিজেদের পরিচয়ে বলে, আমরা বাদিয়া মুসলমান। কোন অর্থে বাদিয়া সেটা খুব পরিষ্কার নয়। কেউ কেউ নিজেদের পরিচয়ে বলে শেরশা-বাদিয়া। বিনায়ক ইতিহাসে অনার্স করেছিল। ১৫৩৬-৩৭ সালে শেরশাহ বছরখানেকের মতো গৌড় দখল করে রেখেছিলেন। তখন নতুন আবাদি বসিয়ে এই অঞ্চলের কিছু সংস্কার করেছিলেন। মালদার বুদ্ধিজীবীদের কারও কারও ধারণা, সেই থেকেই নাম শেরশা-বাদিয়া।
সাতের দশকের প্রথম দিকে সেই গরিবি হঠাওয়ের সময় এখানে একটা স্বাস্থ্যকেন্দ্র এবং হাইস্কুল তৈরি হয়। স্থানীয় একজন রাজনৈতিক নেতা দিল্লিতে প্রতিপত্তিশালী হলে মোহনপুরা পায় একটি চারদিক ঘোরানো বাঁধ এবং একটি ব্যাঙ্কের শাখা। কিন্তু এসব সত্ত্বেও পঁচিশ বছর পরে মোহনপুরা প্রায় একই জায়গায় থাকে। লক্ষ্মীতারার কাছে মানুষ আসে, তাদের আতঙ্কের কথা, তাদের দুঃখের কথা, ভালবাসার কথা বলে। পাপের। ভয়ের এবং ত্রাসের কথা জানায়। সে তাদের ত্রাস দূর করে। লক্ষ্মীতারার তাম্রাশ্মীয় যৌবন অটুট থাকে। তার খ্যাতি বাড়ে বই কমে না। আশপাশের গ্রামগঞ্জ নদী-নালা ছাড়িয়ে সারা রাজ্যে এবং পাশের রাজ্যেও ছড়ায়।

সেই এগারো বছর আগেই রেণুকা এবং ভবতোষকে নিয়ে বিনায়ক লক্ষ্মীতারার কাছে গিয়েছিল। ভবতোষের অবস্থা তখন শোচনীয়। তার চিন্তা, কর্ম, আবেগ ইত্যাদি যাবতীয় মানবিক অনুভূতি বিশৃঙ্খল হয়ে গেছে। পারিবারিক, সামাজিক, ব্যক্তিগত যাবতীয় আচরণ বিপর্যস্ত এবং যুক্তিহীন। তখন সে জাগরণেই কখনও কখনও অতিপ্রাকৃত সব দৃশ্য দেখতে শুরু করেছে।
সব থেকে ভয়ঙ্কর তখন তার রোগভীতি। সবসময়ই ধারণা, মারাত্মক সব রোগের জীবাণুরা তার শরীরে ঢুকে পড়েছে। ক্যান্সার, এইডস, যৌনরোগ। কখনও একটা, কখনও একত্রে তার শরীরে প্রবেশ করে আক্রান্ত হওয়ার লক্ষণ প্রকাশ করে। তাকে নিয়ে রেণুকাকে ডাক্তারের কাছে যেতে হয়। বোঝালে বোঝে না অথবা বোঝার জন্য মানসিক যে স্থিতিশীলতা দরকার সেটা তার মস্তিষ্ক আর রক্ষা করতে পারছে না। অফিসে এবং বাড়িতে নিত্যনতুন কাণ্ড ঘটায় সে।
অফিসে সহকর্মীরা একদিন তাকে বাথরুমে আবিষ্কার করল এক অদ্ভুত আচরণ করা অবস্থায়। ইউরিনাল থেকে অনেকটা দূরে ঘরের মাঝখানে দাঁড়িয়ে সে পেচ্ছাপ করছে বাথরুমের মেঝেতে। ভবতোষের আতঙ্ক যে পেচ্ছাপের ধারা বেয়ে এইডস বা অন্য যৌনরোগের ভাইরাস বা জীবাণু তার মূত্রনালিতে প্রবেশ করে মারাত্মক সব কাণ্ড ঘটাবে। একটা সময় সে তার যৌনাঙ্গের শিথিলতা নিয়ে প্রকাশ্যে ও গোপনে বিচিত্র সব ওষুধ ও ব্যবস্থার কথা যে কোনও লোকের সঙ্গেই আলোচনা করত এবং ব্যবস্থা চাইত। নানারকম জানা-অজানা ভেষজ বা তান্ত্রিক ওষুধ সে গ্রহণ করত। তার সহকর্মীরা সবাই তাকে এসব নিয়ে উপহাস কিংবা ঠাট্টা করত। একসময় রেণুকাও এই ঠাট্টার লক্ষ্য হয়ে দাঁড়াল।

বিনায়ক এহেন ভবতোষকে নিয়ে দ্বিতীয়বার মোহনপুরাতে এল এক শরৎকালে। গঙ্গায়, ফুলহারে তখন প্রচুর জল। দুই নদীর প্রান্ত জুড়ে প্রফুল্ল কাশফুলের সমারোহ। আকাশ ভাল বর্ষার কারণে ধোওয়া, ঘন নীল এবং তার মাঝে বড় বড় আকারের সাদা পুঞ্জ মেঘের গম্বুজ।
ফুলহারের খেয়া পেরিয়ে দ্বীপের মূল অংশে আসার পথের দৈর্ঘ্য কমে গেছে। খেয়াঘাটে নৌকা প্রায় দ্বীপের বাঁধের গায়ে এসে লাগে। ফলে নদী থেকে বাঁধ অবধি যে কদর্মাক্ত রাস্তা পেরোতে হয়েছে আগের বারে, এবার আর তেমন অবস্থা নেই। বাঁধের ওপরের রাস্তার কাদাও এই মুহূর্তে শুকনো। ফলে ব্যাঙ্ক অবধি যাওয়ার জন্য একটা-দুটো সাইকেলভ্যানও পাওয়া যাচ্ছে এখন। আবহাওয়া খুবই মনোরম। প্রকৃতি আশ্চর্য সবুজ ও প্রাণবন্ত। মাঠে মাঠে সবুজ ঘাসের গালিচা। শরতের ফুল টগর, করবী, শিউলি শালুকের দেখা পাওয়া যাচ্ছে এখানে-সেখানে। মাঝে মাঝে যে শরতের এক-আধপশলা বৃষ্টি হচ্ছে না এমন নয়। তবে ভারী বৃষ্টির কোনও সম্ভাবনা এই মুহূর্তে নেই।
পারঘাটা পেরিয়ে নৌকা থেকে নেমে বিনায়ক, রেণুকা ও ভবতোষ সাইকেলভ্যানে উঠে বিনয়ের বাসায় এল। আগের থেকে এমনই ব্যবস্থা করা ছিল।
বিনয়ের বউ আরতি খুবই চৌকস মেয়ে। আগের বারেই রেণুকার সঙ্গে তার সম্পর্ক গড়ে উঠেছিল। সে গ্রামের মেয়ে, কয়েক ক্লাস অবধি স্কুলে গেলেও কলেজে যায়নি। কিন্তু সে-আন্দাজে ভালরকমই সপ্রতিভ। রেণুকার সঙ্গে মোটামুটি সদ্ভাব হতে সেবারে তার কোনও অসুবিধা হয়নি।
এবারও আরতি রাস্তায় এসে রেণুকার হাত ধরে ঘরে নিয়ে গেল। সম্ভবত দু’জনে একই ধরনের মন্দভাগ্য। বিনায়কের মনে হল, এ কারণে দু’জনের মধ্যে একটা সহমর্মিতা— স্বাভাবিক অবস্থায় থাকলে যা কখনওই সম্ভব হত না— তৈরি হয়েছে।
আপাতত সুখী বিনয় মোহনপুরাতেই একটুকরো জমি কিনে বাড়ি বানিয়েছে। ব্যাঙ্কের ঋণে সে পাকা বাড়িই বানাতে পারত। কিন্তু সে তেমনটি করেনি। গ্রামদেশে সাধারণ গৃহস্থ যেমন বাড়ি বানায়, সে তেমনই করেছে। দক্ষিণমুখী বাড়িটার সামনের অনেকটা জায়গা জুড়েই উন্মুক্ত সবজির বাগান। ঘরে ঢোকার মুখে ডানদিকে ছোট একটুকরো ফুলের বাগান। সিঁড়ি দিয়ে উঠে বারান্দা, বেশ প্রশস্ত। বারান্দার বাঁদিকের অংশ একখানা ছোট ঘরে রূপান্তরিত। মেয়ে বড় হলে সেই ঘর তার একান্তই নিজস্ব হবে। এখন ঘরখানা তার পড়ার ঘর। বারান্দার সঙ্গে যুক্ত বড় ঘরখানা যথার্থই বড়। দক্ষিণমুখী ঘরখানার দৈর্ঘ্য-প্রস্থ ষোলো বাই চোদ্দো ফুটের হবে। উত্তর দিকে দুটো জানলা, পুব দিকে দুটো জানলা, দক্ষিণে পুব দিক ঘেঁষে একটা প্রশস্ততর জানলা। প্রবেশপথের দরজা দক্ষিণ দিকের বারান্দামুখী। পশ্চিম দিকে একটা দরজা আছে। সেটা খুললে লম্বাটে একটা ঘর যার দৈর্ঘ্য প্রস্থের চেয়ে অনেক অনেকটাই বেশি। সেই ঘরের অন্তিম উত্তরে রান্নাঘর। দক্ষিণ অংশ খাওয়াদাওয়া, কুটনো কোটার ঘর গেরস্থালি।
বাইরে পিছনের উঠোন। সেখানে টিউবওয়েল, পায়খানা, স্নানের ঘর। সামনের ওঠার সিঁড়ি থেকে শুরু করে বারান্দা, ঘর, রান্নাঘর, পায়খানা ইত্যাদি সব— সব— উঁচু ভিটের ওপর। সিমেন্টের মেঝে এবং দেওয়ালের আড়াই ফুট উচ্চতা পর্যন্ত সিমেন্টের গাঁথনি। তার ওপরে কাঠ ও বাঁশের দেওয়াল, জানলা, আড়া। তার ওপরে আবার কাঠ, বাঁশ। সমস্ত কিছুর ওপরে ছনের মুকুট, চমৎকার দক্ষ দর্জির কাজের মতো সুদৃশ্য করে ছাঁটা।
সামনের ফুলের বাগানে আছে এই ঋতুতে অপূর্ব সমৃদ্ধ একটা হলুদ কল্কে ফুলের গাছ। এই সময়ে অজস্র হলুদ ফুলের সমারোহ। তবুও সৌন্দর্যপিপাসুর কাছে মনে হবে— এই ফুলগুলো, নাকি গাছের স্বাস্থ্যবান নরম ঝাঁকড়া হয়ে থাকা পাতাগুলি, কোনটা বেশি সুন্দর! আছে একটা ক্যানার ঝোপ, লাল টকটকে অজস্র বৃহৎ আকারের ফুলগুলো মানুষের মনের আবেগকে মুহূর্তে উদ্বেল করতে পারে। আছে বেলিফুলের কেয়ারি একটা, একটা অপরাজিতার ঝোপ, ছোট আকারের টগরের গাছ কয়েকটা।
এই সবগুলো গাছেই এই মরসুমে প্রচুর প্রচুর ফুল। বারান্দায় বসে চায়ের কাপ হাতে নিয়ে বিষাদগ্রস্ত কণ্ঠে— যা বর্তমানে তার স্বাভাবিক সুর— বলল, এরকম একটা বাড়িতে, এরকম একটা জায়গায় যদি থাকতে পারতাম!

তার কথার উত্তরে বিনয় বলল, থাকুন না দাদা কয়েকটা দিন আমাদের সঙ্গে। কোনও অসুবিধা নেই।
ভবতোষ বিনয়ের মুখের দিকে তাকিয়ে নির্বোধের মতো একবার ম্লান হাসল। বলল, থ্যাঙ্ক ইউ। চারদিকের অজস্র সবুজ, হলুদ, সাদা এবং লালের সমারোহের দিকে তাকিয়ে থাকতে থাকতে তার মুখশ্রীতে যতটুকু উৎফুল্লতা এসেছিল, সেটুকুও শুকিয়ে যেতে থাকে। সে আচমকা একটি কবিতার অংশবিশেষ আবৃত্তি করতে শুরু করে—
ঢের ছবি দেখা হল— ঢের দিন কেটে গেল— ঢের অভিজ্ঞতা
জীবনে জড়িত হয়ে গেল, তবু, নক্ষত্রের রাতের মতন
সফলতা মানুষের দূরবীনে রয়ে গেছে— জ্যোতির্গ্রন্থে;
জীবনের জন্যে আজও নেই।
অনেক মানুষী খেলা দেখা হল, বইপড়া সাঙ্গ হল— তবু
কে বা কাকে জ্ঞান দেবে— জ্ঞান বড় দূর পৃথিবীর
রুক্ষ গল্পে; আমাদের জন্য দূর— দূরতর আজ।
সময়ের ব্যাপ্তি যেই জ্ঞান আনে আমাদের প্রাণে
তা তো নেই; স্থবিরতা আছে— জরা আছে।
চারদিক থেকে ঘিরে কেবলই বিচিত্র ভয় ক্লান্তি অবসাদ
রয়ে গেছে। নিজেকে কেবলই আত্মক্রীড় করি; নীড়
গড়ি। নীড় ভেঙে অন্ধকারে এই যৌন যৌথ মন্ত্রণার
মালিন্য এড়ায়ে উৎক্রান্ত হতে ভয়
পাই। সিন্ধুশব্দ বায়ুশব্দ রৌদ্রশব্দ মৃত্যুশব্দ এসে
ভয়াবহ ডাইনীর মত নাচে— ভয় পাই— গুহায় লুকাই;
লীন হতে চাই— লীন— ব্রহ্মশব্দে লীন হয়ে যেতে
চাই। আমাদের দুহাজার বছরের জ্ঞান এরকম।
নচিকেতা ধর্মধনে উপবাসী হয়ে গেলে যম
প্রীত হয়। তবুও ব্রহ্মে লীন হওয়াও কঠিন।
আমরা এখনো লুপ্ত হইনি তো।
উপস্থিত কেউ ভবতোষের আবৃত্ত কবিতার বিন্দুবিসর্গ না বুঝলেও সবাই যেন কেমন ভারাক্রান্ত বোধ করতে লাগল। কেমন বিষাদ! কেমন যেন উপস্থিত সকলের উপলব্ধির স্তরে আচ্ছন্নতা।
শুধু রেণুকাই বুঝল যে এ লোকটা যদি শেষপর্যন্ত কিছু বুঝে থাকে তা হলে জীবনানন্দ দাশের কবিতা পাঠ করেই বুঝেছে। নিজের উপলব্ধিতে নয়। সেখানে একসময় ছিল তার অ্যাকাডেমিক ব্রিলিয়ান্সের তকমা। তারপরে তাতে যুক্ত হল স্তাবকদের বাহবা আর হল্লা। নেশাতে ছিলই। তারপর যখন হতাশা বাড়তে লাগল তখন সমানতালে নেশা বাড়তে লাগল। নেশার বৈচিত্র্য বাড়তে লাগল। আর এই সমস্ত কিছুর সঙ্গে পাল্লা দিয়ে বাড়তে থাকল অধঃপতন। রেণুকা আর পারছে না। একেক সময় মনে হয়, ভবতোষ যদি এখন তাকে মরেও নিষ্কৃতি দিত! হায় ভগবান, সেই প্রথম বয়সের মুগ্ধ স্তাবকদের দলে সেও যে ছিল!
কিন্তু যাকে বলে নষ্ট হওয়া, রেণুকা এখনও তো সেই দলে নাম লেখাতে পারেনি।
অঙ্কন : শুভ্রনীল ঘোষ
পরের অংশ...

অভিজিৎ সেন নদীর দিক থেকে ক’টা ফটফট আওয়াজ এগিয়ে আসতে লক্ষীতারা সচকিত হয়ে উঠল। আওয়াজটা ক্ষীণ থেকে অতিদ্রুত উচ্চগ্রামে ওঠাতে বিনায়ক বুঝতে পারল শব্দটা এগিয়ে আসা একটা ভুটভুটি নৌকার। ভুটভুটি এইসব অঞ্চলে সবে চালু হয়েছে। লক্ষ্মীতারার অস্থিরতা এবং খানিকটা বিমূঢ়তা বিনায়কের নজর এড়ায়নি। হঠাৎ দরজা দিয়ে একটি বছর পনেরো-ষোলোর মেয়ে মুখ বাড়িয়ে দিয়ে বলল, উস্যাব [...]

আপনি যদি ইতিমধ্যে সুখপাঠের গ্রাহক হয়ে থাকেন, তাহলে লগ ইন করুন।
আপনি যদি "সুখপাঠ " -এর গ্রাহক না হয়ে থাকেন তা হলে আপনার পছন্দ অনুযায়ী এক মাস বা এক বছরের জন্য এখনই গ্রাহক হয়ে যান।
One Year Instant Access
Payment by Visa/Master Credit cardsa
$20/year*
Introductory Price
*Inclusive of GST
Pujo Special Issue
Payment by Visa/Master Credit cardsa
$4/-*
One-time payment for one year
*Inclusive of GST