বাংলায় প্রথম সম্পূর্ণ অনলাইন একটি সাহিত্য পত্রিকা

কুসুমের মধু পর্ব ৩

দেবাশিস গঙ্গোপাধ্যায়

সিসিসটার কলেজের অবস্থান শহরতলিতে। চারপাশ শান্ত, নিরিবিলি। লোকজনও বেশি নয়। মিসেস হারমারের মেসটাও কলেজের কাছে। গিরিশ যেমন বলেছিলেন, মিসেস হারমার ঠিক তেমন মিশুকে, অতিথিপরায়ণ। মিসেস হারমারের স্বামী অল্প বয়সে মারা যান। তাঁর দুই ছেলে। জন ও রবার্ট। মিসেস হারমার একতলার ঘরটি ভারতীয় ছেলেদের জন্য ভাড়া দিয়েছেন। সময়ে সময়ে তারা আসে। পেয়িং গেস্ট হিসেবে থাকে। মিসেস হারমার ভারতীয়দের খুব পছন্দ করেন। কারণ ভারতীয়রা স্বভাবে শান্ত, অহেতুক ঝামেলা-ঝঞ্ঝাটে তারা থাকে না।
লন্ডনে প্রায় মাস পাঁচেক কাটিয়ে ফেলেছে দ্বিজেন্দ্র। মেসে আরও কয়েকজন আছে। তাদের মধ্যে দ্বিজেন্দ্রর বেশি আলাপ নিত্যগোপাল ও অতুলকৃষ্ণর সঙ্গে। আরও কয়েকজন বাঙালি ছাত্র আশেপাশে ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। তারা মাঝেমধ্যে গল্প করতে আসে।
মেসবাড়ির চারপাশ বেশ সুন্দর। দু’পাশে লম্বা লম্বা গাছ। দু-চারটে ছোট ছোট বাড়ি। কদাচিৎ দু-চারজন লোক মেলে। বিলেতে একটা বিষয় খেয়াল করেছে দ্বিজেন্দ্র, মানুষজন বড় নিয়মে চলে। কেউ কথা না বললে উজিয়ে কেউ কথা বলে না। মুখ-চোখের মধ্যে যেমন কর্মনিষ্ঠার ছাপ আছে, তেমনই উদাসীনতাও তাদের স্বভাবধর্ম। মানুষগুলোকে মাঝে মাঝে যন্ত্রের মতো মনে হয়। সে একটু হাঁফিয়ে ওঠে। তার অল্পস্বল্প আড্ডা না হলে চলে না।
ভাগ্য ভাল মিসেস হারমার ও তার পরিবার তেমন নয়। জন এখানে থাকে না। সে কেমব্রিজে আছে। রবার্ট দ্বিজেন্দ্রর বয়েসি। সে যথেষ্ট মিশুকে। পড়াশুনা ছাড়া সব ব্যাপারেই সে তৎপর। রবার্টের সঙ্গে তার দিব্যি ভাব হয়ে গেছে। মাঝেমধ্যেই তারা ঘুরতে বেরোয়। নিত্যগোপালরাও মাঝে মাঝে তাদের সঙ্গে যায়। উইকএন্ডে মোটামুটি তারা এখানে ওখানে যায়। শেক্সপিয়রের জন্মভূমি দ্বিজেন্দ্র মাঝে একদিন দেখতে গেছিল। তবে শখ পূরণ হয়নি। সে আবার যাবে।
কলেজ আপাতত বন্ধ। অতিরিক্ত বরফ পড়ার কারণে। গত দু’দিন ধরে বরফ পড়ে রাস্তা বুজে গেছে। চারদিক সাদা রঙে ভরে গেছে। ফায়ারপ্লেস সবসময় জ্বালিয়ে রাখতে হচ্ছে। জানলা দিয়ে বাইরে তাকিয়ে সে দেখছিল চারদিকে বরফের স্তূপ। গাছগুলো বরফের গাছ হয়ে দাঁড়িয়ে আছে। এর মধ্যে যাদের বেরোতে হয়েছে, তারা বরফ কেটে কেটে বেরোচ্ছে। অনেক বাড়ি এখন বরফে আচ্ছাদিত। বরফ না কাটলে বেরোনোর উপায় থাকে না। এ বাড়িতে অবশ্য বরফ তেমন জমেনি। কারণ রবার্ট বরফ পড়তে না পড়তে সরিয়ে দিচ্ছে। দ্বিজেন্দ্র হাত লাগাতে চেয়েছিল, ওরা বারণ করেছে।

সারা সকাল-দুপুর ঝিম মেরে কাটাল দ্বিজেন্দ্র। ঠান্ডায় সে কাবু। বইপত্র পড়ছে ঠিকই, তার আজ তেমন মন লাগছে না। কৃষ্ণনগরের কথা মনে পড়ছে। বাড়ির সবার কথা, বিশেষ করে ছোটবোনের কথা মনে পড়ে তার। দ্বিজেন্দ্রের থেকে মালতী বেশি ছোট নয়। তার সঙ্গেই বন্ধুত্ব বেশি ছিল। দ্বিজেন্দ্র মালতীর সঙ্গে ঠাট্টা ইয়ার্কি কম করত না। ওরা দু’জনে মিলেই বাবার কাছে গানের তালিম নিয়েছে। ও গান গাইলেই দ্বিজেন্দ্র ঘন ঘন ওর পেছনে লাগত। রাগিয়ে দেবার জন্য সে বলত, ইস, মালতী, কী গান করছিস? সুর নেই। তাল নেই। একবারে যা তা!
মালতী কাঁদো কাঁদো হয়ে উঠত। বলত, সত্যি ছোড়দা, গান হচ্ছে না? কোথায় ভুল করলাম।
দ্বিজেন্দ্র বলত, হুম। ভুল একটা-দুটো করেছিস। উচ্চারণও ভাল নয় মোটে। স-শ ঠিক করে বলতেই পারিস না।
মালতীর উচ্চারণ নিখুঁত। তবু তার মন ভার হত। ছোড়দার কথা তার কাছে বেদবাক্য।
দ্বিজেন্দ্র ওর মুখ দেখে তখন হো হো করে হেসে চুলের বেণী টেনে দিয়ে বলত, দুর বোকা। আমি তো এমনি এমনি বলছিলাম। তুই ভারি সুন্দর গান করিস। একদিন দেখবি, তুই বড় গায়িকা হবি।
বিলেত আসার আগে মালতী তার সব কিছু গুছিয়ে দিয়েছে। তাকে পইপই করে বলে দিয়েছে সে কী কী করবে? কী কী করবে না। একটা ব্যাপারে মালতী বলেছে, দ্যাখ, বিলেতে আর যাই করিস, ওখানকার মেয়েগুলো থেকে সাবধান।
কেন?
তোকে কোনও মেমের পছন্দ হয়ে গেল। তুই যদি তাকে পছন্দ করে বিয়ে করে ফেলিস! আর তুই দেশে ফিরতে পারবি না।
বিছানায় শুয়ে শুয়ে এসব ভেবে দ্বিজেন্দ্র অকারণে হো হো করে হাসল। মালতীর খুব ভয়, সে যদি আর দেশে না ফেরে!
দ্বিজেন্দ্র একটা গ্রামোফোন কিনেছে। লন্ডনের এক দোকান থেকে। এখন সে সেটা চালাল। এখনও বিলিতি গান আর সুর, কোনওটাই তার হজম হচ্ছে না। সেভাবে ভক্তি আসেনি। জাহাজে তাকে ডেভিড শুনিয়েছিল। তবু মন টানেনি। তাই সে গান শোনার চেষ্টা করছে। তার পাশের ঘরে নিত্যগোপালরা আছে। তাদের সঙ্গে কিছুটা সময় কাটায় দ্বিজেন্দ্র। তবে ওরা কেউ তার মতো গান, সাহিত্য কোনও কিছুর ভক্ত নয়। ভাবনাচিন্তা মোটা দাগের। তবু দ্বিজেন্দ্র তা ওদের বুঝতে দেয় না। মানুষ নানারকম হবে। তার হাজার ধরনের বৈশিষ্ট্য। সে মজলিশি মানুষ। সবার সঙ্গে গল্প করতে তার ভালই লাগে। একটু আগে সে একবার গেছিল পাশের ঘরে। কিছুক্ষণ ছিল। নিত্যগোপালরা তাস খেলছে। একটু বসে দ্বিজেন্দ্র আবার ঘরে ফিরে এসেছে।

গান চলছে। দ্বিজেন্দ্র মনস্থির করতে পারছে না কী করবে? খাতা-কলম নিয়ে কিছু লেখার চেষ্টা করবে কিনা। না কি পড়াশোনা করবে? এই সময়ে একতলা থেকে ডাক এল। পরিচারিকা এসে খবর দিল, মিসেস হারমার জিজ্ঞেস করছেন সে কফি খাবে কি না? দ্বিজেন্দ্র শুনে লাফিয়ে উঠল। অনেকক্ষণ ধরে একটা পানীয় খাওয়ার ইচ্ছে হচ্ছিল তার। সে মাথা নাড়িয়ে যাবার ইচ্ছে প্রকাশ করল।
একটু পরে দ্বিজেন্দ্র পোশাক পরিবর্তন করে নীচে এল। এ দেশে পরিচ্ছন্ন পোশাক পরার রীতি আছে। কেউ এলোমেলোভাবে সাধারণত থাকে না। ঘরের মধ্যে সে যেভাবেই থাকুক না কেন, বাইরে তার পোশাক শিষ্টাচারসম্মত হওয়া উচিত।
দ্বিজেন্দ্র কোট-হ্যাট পড়ে একতলায় নামল। মিসেস হারমার সম্পর্কে সে যতবার ভাবছে, তত মুগ্ধ হচ্ছে। সেজদাকে সে মজা করে চিঠি লিখে জানিয়েছে, ‘আমাদের ল্যান্ডলেডি আমাকে যে পরিমাণ ভালবাসেন তার সীমা-পরিসীমা নেই। আমি কী খাব না খাব তা নিয়ে যথেষ্ট উদ্বিগ্ন। একদিন পোলাও করে খাইয়েছেন। রান্না যেমন হোক, তাতে ভালবাসা অগাধ। ভালবাসা শুনে ভয় পেয়ো না। মিসেস হারমারকে আমি বিয়ে করব না। তিনি আমার মায়ের মত।’
দ্বিজেন্দ্র নামতেই মিসেস হারমার চোখ পাকিয়ে বললেন, এতক্ষণ পর তোমার সময় হল? কখন ডেকেছি তোমাকে!
দ্বিজেন্দ্র বলল, মাফ করবেন। দেরি হয়ে গেল।
মিসেস হারমার অভিমানের স্বরে বললেন, সারাদিন তুমি অন্য জগতে থাক। গান আর বই। আমাদের কথা ভাবই না।
দ্বিজেন্দ্র মাথা চুলকে বলল, না ম্যাডাম। এমন কথা বলবেন না। আপনি থাকায় আমি মায়ের অভাব বুঝতে পারি না।
মিসেস হারমার বললেন, খুব হয়েছে। বসো এবার। আর শোনো, কাল রাতেও তোমাকে দেখেছি অনেক রাত পর্যন্ত পড়াশোনা করছ। এ বাড়িতে রাত এগারোটার বেশি জাগার নিয়ম নেই। তা ছাড়া রাতে পড়ে তুমি কী উদ্ধার করবে শুনি! বরং শরীর খারাপ হবে তোমার।
দ্বিজেন্দ্র টেবিলে বসে চুপ করে হাসিমুখে মিসেস হারমারের অভিযোগগুলো শুনল। রবার্ট তাকে ঠেলা দিয়ে বলল, দেখছ, মা একবারও আমাদের কথা বলছেন না। শুধু তোমার কথা।
মিসেস হারমার চোখ পাকিয়ে বললেন, নটি বয়। তোমার জন্য ভাবনায় আমার শরীর খারাপ হয়ে গেল। কবে তোমার সুবুদ্ধি হবে আমি ভাবি।
রবার্ট অবাক হয়ে বলল, আমি কী করলাম?
মিসেস হারমার বললেন, তুমি কী কর তাই বলো? সারাদিন তুমি খেলে বেড়াচ্ছ, পড়াশোনায় কোনও নজর নেই।
রবার্ট চেয়ার থেকে উঠে মাকে একটা চুমু খেয়ে বলল, কাম অন মা। সামনে একটা ভাইটাল ম্যাচ আছে। ওটা খেলেই পড়াশোনায় মন দেব।
কথা বলতে বলতেই বেল বাজল। মিসেস হারমার মুখে একটা অদ্ভুত ভঙ্গি করে বললেন, এই অসময়ে কে এল? চারদিকে বরফ পড়ছে, তার কি বেরোনো উচিত হয়েছে!
বেল বাজানোর পরপরই পরিচারিকা দরজা খুলে দিয়েছিল। ঘরের মধ্যে তোয়াক্কাহীনভাবে ঢুকে পড়ল এক তরুণী। বয়স কুড়ির বেশি হবে না। তার স্কার্টে লেগে আছে বরফের কুচো।
মিসেস হারমার বিস্ময়ে বললেন, ওমা তুমি! আমার সোনা! কবে এলে বোস্টন থেকে? আমি তো ভেবে ভেবে সারা, জেনি বোধহয় আর ফিরবে না। ওখানে কোনও বর পেয়ে গেছে বুঝি।
রবার্ট একটু হেসে বলল, ওকে কেউ বিয়ে করবে না মা।
জেনি গায়ের কোট ছাড়ল। রবার্টকে একটা মৃদু ঠেলা মেরে সে ফায়ারপ্লেসের সামনে এগিয়ে গেল। হাতদুটো আগুনের আঁচে সেঁকতে সেঁকতে সে বলল, আজই এলাম। তাই তোমার সঙ্গে দেখা করতে এলাম।
মিসেস হারমার হেসে বললেন, পারও বটে। পাগলি একটা। এই দুর্যোগে কেউ আসে!
রবার্ট আবার মজা করে বলল, আসবে না কেন? জেনি নিজেই তো একটা দুর্যোগ।
এবার জেনি উঠল না। সেখান থেকেই সে রবার্টের দিকে চোখ পাকাল।

দ্বিজেন্দ্র চুপ করে বসে উপভোগ করছিল ওদের মজা-হুল্লোড়। জেনিকে সে অপাঙ্গে দেখল। বেশ সুন্দর দেখতে মেয়েটি। গায়ের রং ফর্সা কিন্তু তা ফ্যাকাশে নয়। মুখশ্রী ধারালো। চোখের রং নীল। আরও একটা কারণে সে আকৃষ্ট হচ্ছিল। মেয়েটি বেশ উচ্ছল। প্রাণবন্ত। অন্য ইংরেজ মেয়েদের মতো নয়।
জেনি দ্বিজেন্দ্রের দিকে একঝলক তাকাল। তারপর মাকে বলল, তোমার কাছে কি এখন ইনি এসেছেন?
হ্যাঁ। গতবছর তুমি চলে যাবার পরপর ও এসেছে। ওকে দ্যাখোনি তুমি।
ইন্ডিয়ান?
হ্যাঁ।
জেনি কাঁধ ঝাঁকিয়ে বলল, তুমি ইন্ডিয়ানদের মধ্যে কী পাও জানি না। আমার তাদের মোটেই ভাল লাগে না। ওরা আলাপ করতেই পারে না। দ্যাখো না, সামনে এতক্ষণ বসে রয়েছেন, কোনও কথা বললেন উনি?
দ্বিজেন্দ্রর ঠোঁটে হাসি ফুটল। মেয়েটি বেশ সপ্রতিভ। কোনও মেকী আচরণের ধার ধারে না। সে তড়িৎগতিতে জবাব দিল, কী করে পারব? আপনি সুযোগ দিচ্ছিলেন না।
জেনি ঠোঁট ওল্টাল।
মিসেস হারমার হেসে বললেন, দাঁড়া, আমি আলাপ করিয়ে দিই। ওর নামটা বেশ বড়। আমরা ওকে ডাকি ডিএল বলে। খুব ভাল ছেলে। পড়াশোনা করতে বিদেশে এসেছে। তিনি একটু থেমে দ্বিজেন্দ্রের দিকে তাকিয়ে বললেন, ওর নাম তো শুনলে, জেনি। পড়াশোনা, গান, আঁকায় সব কিছুতে চৌকস। কিন্তু কোনওটায় ওর মন লাগে না।
জেনি বলল, আঃ হারমার। চুপ করো।
দ্বিজেন্দ্র জেনিকে চুপচাপ দেখছিল। মাথার রেশমি চুল অগোছালে সামনে চলে আসছে। নিজের রূপ সম্পর্কে সে বোধহয় সচেতন নয়। জানলার শার্সি বেয়ে যেটুকু আলো পড়ছে তাতে তাকে কোনও এক নিঃসঙ্গ দ্বীপের রাজকুমারী মনে হচ্ছে। বিদেশে এই প্রথম এক সুন্দরীতমা মহিলাকে সে দেখল।
জেনি হঠাৎ বলল, কথা না বলে হাঁ করে চেয়ে আছ কেন?
দ্বিজেন্দ্র একটু লজ্জা পেল। সেটা কাটিয়ে সে বলল, মানুষ সুন্দরের দিকে হাঁ করেই তাকায়।
জেনি কাঁধ নাচাল। যেন কথাটা সে আমল দিতে চাইছে না। সে বলল, সারাদিন বই পড়তে ভাল লাগে? আমার মোটেই ইচ্ছে করে না।
দ্বিজেন্দ্র বলল, আমি সারাদিন বই পড়ি না।
তাহলে কী কর?
মিসেস হারমার ওদের কথার মধ্যে ঢুকে গিয়ে বললেন, জেনি, তুমি যদি ওকে দ্যাখো, ভাল লাগবে। ডিএল খুব হুল্লোড়বাজ ছেলে। ফাঁক পেলেই গান করে। গান শোনে।
কথাটা শুনে জেনির চোখ-মুখে আগ্রহ ছড়াল। তার এতক্ষণের পাত্তা না দেওয়া মনোভাব বদলে গেল। সে বলল, তাই? কী গান শোন?
দ্বিজেন্দ্র বলল, এখানে তো আমাদের দেশের গান শোনা হয় না। তোমাদের দেশের গান শুনি।
জেনি হঠাৎ হো হো করে হাসল। হেসে গড়িয়ে পড়ে বলল, গানের আবার দেশ! গান সবার!
দ্বিজেন্দ্র থতমত খেয়ে গেল। জেনির কথাটার মধ্যে সত্য আছে। সত্যিই তো, গানের কোনও দেশ হয়! সব গান সব মানুষের। যদি তা গ্রহণ করার ক্ষমতা থাকে। কথাটা ভাবলেও জেনির কাছে স্বীকার করতে ইচ্ছে করল না। সে বলল, গান সবার তখনই হয় যদি সে গান হৃদয় ছোঁয়। দুঃখের কথা কী জেনি, বিলিতি গান আমি শুনছি বটে, তা আমার মন জয় করতে পারছে না। কেন জানি অর্থহীন মনে হচ্ছে।
জেনি বলল, ডিএল, তুমি বোধহয় মন দিয়ে শুনছ না। তুমি শোনো। দেখবে ঠিক রস পাবে।
দ্বিজেন্দ্র বলল, কার গান শুনব বলো তো?
জেনি বলল, সবচেয়ে ভাল হয়, আমাদের দেশের হাসির গান শোনা। তাতে তুমি অর্থ বুঝবে ও সুর বুঝবে।
দ্বিজেন্দ্র অবাক হয়ে মেয়েটির দিকে চেয়ে রইল। কী সুন্দরভাবে সে সমস্যার সমাধান করে দিল। ডেভিড তাকে বলেছিল হাসির গানের কথা। সে ততটা মাথা ঘামায়নি। জেনির কথাই ঠিক। হাসির গানই তো মানুষ তাড়াতাড়ি বোঝে। এবার থেকে সে তাই করবে। দ্বিজেন্দ্র ঠিক করল, কয়েক দিনের মধ্যে সে কিছু বিলিতি হাসির গান সংগ্রহ করবে। বলল, ধন্যবাদ জেনি।
জেনি ইংরেজ মহিলাদের চেয়ে যেন আলাদা। তাকে কিছু উত্তর না দিয়ে সে রবার্টকে বলল, রবার্ট, পরের সপ্তাহে আমার এক বয়ফ্রেন্ডের বাড়ি পার্টি আছে। যাবে না কি?
রবার্ট বলল, শিওর।
জেনি বেরোনোর আগে হঠাৎ বলল, ডি এল, তুমিও যেতে পারো। নাচতে হবে কিন্তু।
দ্বিজেন্দ্র মাথা কাত করে সায় দিল।

অঙ্কন : মৃণাল শীল

(পরের পর্ব আগামী বুধবার)

কুসুমের মধু পর্ব ১

কুসুমের মধু পর্ব ২

2 Comments
  1. Partha Ghosh says

    পড়তে পড়তে অতলে তলিয়ে যাচ্ছি । ফুলের মধুর স্বাদ বড়ই মিষ্টি। কিছুক্ষনের জন্য ভারত ছাড়া হয়ে যাই পড়তে পড়তে।

  2. যুগান্তর মিত্র says

    খুব ভালো লাগছে দেবাশিস পড়তে। দারুণ এগোচ্ছে। পরপর তিনটে পড়লাম। পরবর্তী পর্বের অপেক্ষায়।

মতামত জানান

Your email address will not be published.